Knowing and learning -->
Image may contain: night

সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতীর মুরগী ইত্যাদি কাটা প্রসঙ্গে।
================================
গর্ভবতী মহিলাদের উপর চন্দ্র/সূর্য গ্রহণের প্রভাব
কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সূর্য গ্রহন ও চন্দ্র গ্রহনের কোন প্রভাব গর্ভবতী মা, বা তার গর্ভস্থ ভ্রুনের উপর পড়ে না।
গর্ভবতী মা কোন কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁট কাটা জন্মাবে, কোন কিছু ভাঙলে, বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবে – এধরনের যত কথা প্রচলিত আছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা, যার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর কোন সম্পর্ক নেই। চন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোন সৃষ্ট বস্তু অদৃশ্য ভাবে কারও উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে এধরনের বিশ্বাস রাখা তাওহীদের পরিপন্থী।
যে আল্লাহ তা’য়ালা ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে তার মনে রাখা উচিত যে, আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে চন্দ্র, সূর্যের গ্রহণও একেকটি নিদর্শন। কেউ যদি চন্দ্র বা সূর্য গ্রহন দেখে, তার উচিত হবে রাসুল (সাঃ) এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করা ও বেশী বেশী করে সে সময় আল্লাহকে স্মরণ করা।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন •► “চন্দ্র এবং সূর্য এ দুটি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহন হয় না। তাই তোমরা যখন প্রথম গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।” [বুখারী ৪৮১৮; ইফা]
অন্য বর্ণনায় রাসুল (সাঃ) বলেছেন •► “চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণ কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগেনা বরং এদুটো আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন গ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়ে যায়।” [সহীহ মুসলিম ১৯৭২; ইফা]
আমাদের উচিত যা কিছু কুরআন ও রাসুল (সাঃ) এর সহীহ হাদিসে রয়েছে সে সম্পর্কে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা। আল্লাহ যেন আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং আমাদেরকে রাসুল (সাঃ) এর দেওয়া শিক্ষাকে দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে থাকতে সাহায্য করেন। আমীন।
� সুওয়াল : কয়েকদিন আগে আমাদের বাড়ীর পাশে একটি মহিলার একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। সেই সন্তানের দুইহাত কনুই পর্যন্ত কাটা এবং একটি পা হাঁটু পর্যন্ত কাটা। এ ব্যাপারে সবাই বলাবলি করছে--সূর্য গ্রহণের সময় মহিলাটি মুরগী কেটেছে বিধায় তার সন্তানটি এমন হাত-পা কাটা হয়েছে।
প্রশ্ন হল--সন্তানটির এই অবস্থার পিছনে কি সূর্য গ্রহণের কোন প্রভাব আছে? সন্তানের পিতা যদি সন্তানের মাকে এ নিয়ে গালিগালাজ করেন, তাহলে কি তিনি গুনাহগার হবেন? সূর্য গ্রহণের সময় কোনকিছু করা বা না করা নিয়ে গর্ভবতী মহিলাদের কি কোন বিধি-নিষেধ রয়েছে?
 জাওয়াব : সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলারা মুরগী, মাছ ইত্যাদি কাটলে, সন্তানের হাত-পা কাটা হয়--এ ধরনের কথা বলা বা বিশ্বাস করা কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা। সমাজে এ ধরনের আরো বহু কুসংস্কার প্রচলিত আছে, শরীয়তে যার কোন ভিত্তি নেই। এসব ভিত্তিহীন কথা বলা ও মানা গুনাহর কাজ এবং তা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।
বরং এক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে, ঐ মহিলার সন্তানটির হাত-পা কাটা একমাত্র আল্লাহর হুকুমেই তাকদীরীভাবে হয়েছে। সূর্য গ্রহণের সময় মুরগী কাটার কারণে তা হয়নি বা এর মধ্যে সূর্য গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। এতে সূর্য গ্রহণের প্রভাব আছে মনে করলে, ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
বস্তুত সূর্য গ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের বা কারো জন্যই জাগতিক কোন কাজ করা বা না করা নিয়ে কোনরকম বিধি-নিষেধ নেই। এ ব্যাপারে যা প্রচলিত আছে, তা কেবলই কুসংস্কার ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। সে ধরনের কোন নিয়ম মানলে বা বিশ্বাস করলে মারাত্মক গুনাহ হবে।
বরং সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণকে মহান আল্লাহর কুদরতী নিদর্শন বলে বিশ্বাস করতে হাদীসে বলা হয়েছে এবং তখন পুরুষগণকে মসজিদে জামা‘আতের সাথে সালাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে) ও সালাতুল খুসূফ (চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে) নামায পড়ার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে এতে কোনরূপ বিধি-নিষেধ নেই।
[হাওয়ালা : সূরাহ মায়িদা, ২/ সূরাহ হাশর-৭]
“““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““
** দ্বীনী এ পোস্টকে শেয়ার করে ইসলামের আলো পৌঁছে দিন প্রিয়জনদের কাছে। দ্বীনের হিদায়াতের সমূজ্জ্বল আলোকরশ্নিতে আলোকিত হোক মুমিনদের হৃদয়।
“““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““““
>
আজ সকাল ৬ টা ৫৮ মিনিট থেকে দেখা যাবে সুর্য গ্রহন। সুর্য গ্রহন নিয়ে সারা পৃথিবিতে প্রচলিত আছে অনেক কুসংস্কার।
আমাদের দেশেও প্রচলিত আছে অনেক কুসংস্কার, এখনো অনেক শিক্ষিত লোক তা বিশ্বাস করেন। আমি একটা লেখা পড়লাম তা সবার সাথে শেয়ার করলাম।
আপানাদের যাদের এর আগে সুর্য্য গ্রহন দেখার অভিজ্ঞতা আছে শেয়ার করতে পারেন কমেন্টে।
(সুর্য্য গ্রহনকে সামনে রেখে আরও কিছু পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে)
***********************************************
সূর্যগ্রহণ পূর্বাহ্নে ঘোষণা করতে না পারায় খ্রিস্টপূর্ব ২১৫৯ অব্দে রাজজ্যোতিষী হি ও হো-কে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়- চীনে এ গল্প বহুল প্রচলিত।
সূর্যগ্রহণ ঘিরে আমাদের সমাজেও নানা কুসংস্কার আছে। গ্রহণের সময় গর্ভবতী মায়েরা কোনও কিছু খেলে সন্তান পেটুক হয়; এ সময় কিছু কাটলে, বিশেষ করে মাছ কাটলে ঠোঁট কাটা, কান কাট বা নাক কাটা সন্তানের জন্ম হয়; এ সময় গাছের ডাল ভাঙলে বা বাঁকানোর চেষ্টা করলে হাত-পা বাঁকানো (পোলিও) সন্তানের জন্ম হয়। গ্রহণের সময় খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হয়।
এমনকি গ্রহণ দেখাও নিষেধ অনেকের কাছে। হয়ত রাহু বা ড্রাগনের সূর্যকে গিলে ফেলার ভয়ে, ছায়ালহরীর সাপদের এড়াতেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আজকের দিনে আমরা জানি, সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে চাঁদ এসে যাওয়ার কারণেই গ্রহণ হয়। তাই ক্ষতিকারক কোনও জীবাণুর জন্ম, কোনও বিশেষ রশ্মির প্রভাব ইত্যাদি অবান্তর।
খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দেরও আগে ব্যাবিলনীয়রা পঞ্জিকা ব্যবহার করত। তারা আবিষ্কার করে, ৬৫৮৫ দিনে বা ১৮ বছর ১১ দিন ও একটি দিনের তিন ভাগের একভাগ দিনের ব্যবধানে সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হয়। সূর্যগ্রহণের এই পর্যায়কালকে 'সারনিক পর্যায়কাল' বা সংক্ষেপে 'সারোস' বলা হয়।
ধারণা করা হয়, ব্যাবিলনীয়দের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে গ্রীক বিজ্ঞানী থ্যালেস সূর্যগ্রহণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারতেন।
জ্যোতির্বিদ্যার আদি ইতিহাস থেকে জানা যায়, অ্যারিস্টার্কাস খ্রিস্টপূর্ব ৩১০-৩২০ অব্দে সূর্যকে কেন্দ্রে স্থাপন করে পৃথিবীকে সূর্যের চারিদিকে পরিভ্রমণরত কল্পনা করেন এবং অন্যান্য গ্রহদের বৃত্তাকাল গতিও সূর্যকেন্দ্রিক বলে ধারণা করেন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্লেটো, অ্যারিস্টটল-এর অধ্যাত্মবাদী দর্শন এবং চার্চ-এর আধিপত্যের কারণে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। মানুষ দীর্ঘদিন জেনে এসেছিল, তাদের প্রিয় আবাস পৃথিবী সৌরজগতের কেন্দ্রস্থলে।
এই চিন্তাধারায় আঘাত করে নিকোলাস কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্বের মডেল বা প্রকল্প হাজির করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি মহাজাগতিক বিভিন্ন ঘটনা, গ্রহের গতি, ক্রান্তিবিন্দুর অয়ন-চলন, ঋতু পরিবর্তনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেন।
পরবর্তী সময়ে টাইকো ব্রাহে, জোহান কেপলার, জিওর্দানো ব্র"নো, গ্যালিলিওসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের নানা আবিষ্কার এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় সূর্যকেন্দ্রিক বিশ্ব বা সৌরজগতের ধারণা।
সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের তত্ত্ব সমর্থন ও প্রচার করার জন্য জিওর্দানো ব্র"নো (১৫৪৮-১৬০০)-কে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়, গ্যালিলও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২)-কে নিক্ষেপ করা হয় অন্ধকার কারাগারে।
(সংগ্রহ)
Previous Post Next Post